OTG Oven কেনার আগে কি কি দেখা দরকার?

ওভেন-টোস্টার-গ্রিলারকে (oven-toaster-griller) সংক্ষেপে বলা হয় ওটিজি (OTG oven)। পুরনো ট্র্যাডিশনাল আভেনের ছোট রূপকেই বলা চলে ওটিজি।
ওটিজির মধ্যে উপরে ও নীচে থাকে কয়েল। কয়েল উত্তপ্ত হয়ে খাবার গরম করে রান্না করে। কেক বেক করার সময়ে দু’দিকের কয়েল গরম করাই প্রয়োজন। আবার গ্রিল করার জন্য শুধু মাত্র উপরের কয়েল উত্তপ্ত করলেই যথেষ্ট।
OTG (Oven Toaster Griller) কেনার আগে আপনার রান্নার প্রয়োজন এবং পরিবারের সাইজ অনুযায়ী কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা উচিত। নিচে প্রধান দিকগুলো দেওয়া হলো:
- ক্যাপাসিটি বা সাইজ: পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী সঠিক লিটারের OTG বেছে নেওয়া জরুরি। যেমন—একা বা দম্পতির জন্য ১০ থেকে ২০ লিটার, ৩-৪ জনের পরিবারের জন্য ২৫ থেকে ৩০ লিটার এবং বড় পরিবার বা বেশি বেকিংয়ের কাজের জন্য ৩৫ লিটার বা তার বেশি ক্যাপাসিটির ওভেন উপযুক্ত।
- ওয়াটেজ বা পাওয়ার কনজাম্পশন: ওভেনের ক্ষমতা সাধারণত ১০০০ ওয়াট থেকে ২৫০০ ওয়াট পর্যন্ত হয়ে থাকে। ক্ষমতা যত বেশি হবে, ওভেন তত দ্রুত গরম হবে এবং রান্নার কাজ দ্রুত শেষ হবে, তবে বিদ্যুৎ খরচও কিছুটা বেশি হতে পারে।
- টেম্পারেচার কন্ট্রোল ও থার্মোস্টেট: বিভিন্ন রেসিপির জন্য বিভিন্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তাই খেয়াল রাখবেন ওভেনটিতে যেন তাপমাত্রা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অ্যাডজাস্টেবল থার্মোস্টেট নক বা ডিজিটাল কন্ট্রোল থাকে (সাধারণত ৯০ থেকে ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত)।
- হিটিং এলিমেন্ট ও মোড: ভালো মানের OTG-তে সাধারণত ওপর ও নিচে আলাদা হিটিং কয়েল থাকে। বেকিং, গ্রিলিং বা টোস্টিংয়ের সুবিধার জন্য হিটিং মোড (যেমন—উভয় কয়েল একসঙ্গে, শুধু ওপরের বা শুধু নিচের কয়েল) পরিবর্তনের অপশন থাকা দরকার।
- কনভেকশন ফাংশন (Convection): ওভেনের ভেতরে গরম বাতাস সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কনভেকশন ফ্যান থাকলে কেক, পেস্ট্রি বা বিস্কুট খুব ভালো বেক হয় এবং খাবার সব দিক থেকে সমানভাবে সেদ্ধ হয়।
- ক্লিনিং ও মেইনটেন্যান্স: ওভেনের নিচে ক্রাম্ব ট্রে (Crumb Tray) থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটি খাবার ঝরে পড়ার কারণে তলা নোংরা হওয়া থেকে বাঁচায় এবং সহজেই পরিষ্কার করা যায়। এছাড়া নন-স্টিক ইনার ক্যাভিটি হলে পরিষ্কার করা আরও সহজ হয়।
- অ্যাকসেসরিজ: ওভেনের সঙ্গে বেকিং ট্রে, ওয়্যার র্যাক, গ্রিল রড বা স্কিভার্স (Skewers), এবং ট্রে হ্যান্ডেল ঠিকমতো দেওয়া আছে কি না তা দেখে নেওয়া ভালো।
কী কী করা সম্ভব: গ্রিলিং, টোস্টিং ও সর্বোপরি বেকিংয়ে ওটিজির জুড়ি মেলা ভার। মুচমুচে কুকিজ় থেকে শুরু করে তুলতুলে কাপকেক… সবই ওটিজিতে তৈরি করা যায়।
অ্যাকসেসরিজ়: বেকিং ট্রে, ক্রাম্ব ট্রে, রোটিসরি রড সেট, টং, ওয়্যার র্যাক… যাবতীয় সব জিনিসই পাওয়া যাবে ওটিজির সঙ্গে।
সময় ও বিদ্যুৎ খরচ: ওটিজিতে খাবার ঢুকিয়ে দিলেই রান্না করা যায় না। কারণ, তার প্রি-হিট করার প্রয়োজন হয়। কিছু সময় ধরে প্রি-হিট করার পরে খাবার ঢুকিয়ে রান্না করা যায়। প্রি-হিট এবং রান্না করতে বেশ খানিক সময় লাগে। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ অনেক বেশি পোড়ে ওটিজিতে।
ব্যবহারের উপায়: সাধারণত ওটিজিতে তাপমাত্রা, মোড ও সময় মাপার জন্য তিন ধরনের নব থাকে। টেম্পারেচার নবে থাকে ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকে ২৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত দাগ।
কিপ ওয়ার্ম, ব্রয়েল, রোটিসরি, টোস্ট, বেক— সাধারণত এই পাঁচ ধরনের মোড থাকে বেসিক ওটিজিতে। কিপ ওয়ার্ম মোডে খাবার গরম রাখা যায়। অথবা খাবার ওটিজিতে রান্না করার পরে হয়তো পরিবেশন করতে আধ ঘণ্টা দেরি আছে। তখন সেটি ওটিজিতে রেখে কিপ ওয়ার্ম মোড চালু করতে পারেন। ব্রয়েলের মাধ্যমে গ্রিল করা যায়। রোটিসরি মোড কাজে আসে রেস্তরাঁসুলভ তন্দুরি, বারবিকিউ করতে। টোস্ট মোডের কাজ সকলেরই জানা। বেক মোডে কেক, কুকিজ়… সব কিছু বেক করা যায়।
শেষ নবটি সময়ের। শূন্য থেকে শুরু করে ৯০ মিনিট পর্যন্ত দাগ থাকে এই মোডে। হতেই পারে যে, কোনও রান্না করতে দু’ঘণ্টা অর্থাৎ ১২০ মিনিট সময় লাগে। সে ক্ষেত্রে ৯০ মিনিট পর্যন্ত রান্না করা হয়ে গেলে আবার নব ৩০ মিনিট অবধি ঘুরিয়ে নিয়ে টাইম সেট করতে হবে।
OTG ওভেন কি?

OTG এর অর্থ হল “ওভেন, টোস্টার এবং গ্রিল,” যা এক ধরনের রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি যা একটি ওভেন, টোস্টার এবং গ্রিলের কার্যকারিতাকে একত্রিত করে। একটি OTG ওভেন শুষ্ক তাপ ব্যবহার করে খাবার রান্না করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, এটি বেকিং, রোস্টিং এবং টোস্টিং এর জন্য আদর্শ।
Rakhi Dey is a Renowned Cooking Expert and Author at Cooking with Rakhi. From Kolkata, West Bengal. Follow her on Linkedin





