Tirumala Tirupati Laddu বাড়িতে কিভাবে বানাবেন?
![Tirumala Tirupati Laddu বাড়িতে কিভাবে বানাবেন? Tirumala Tirupati Laddu Recipe in Bengali](https://www.cookingwithrakhi.in/wp-content/uploads/2024/09/Tirumala-Tirupati-Laddu-Recipe-in-Bengali.jpg)
তিরুপতি লাড্ডু হল ভারতের অন্যতম বিখ্যাত প্রসাদ, যা অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি শহরে অবস্থিত শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরের একটি প্রধান আকর্ষণ। তিরুপতি লাড্ডু শুধুমাত্র একটি মিষ্টান্ন নয়, এটি ভগবান বালাজির ভক্তদের জন্য একটি পবিত্র প্রসাদ হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই প্রসাদ গ্রহণ করতে আসেন।
Tirumala Tirupati Laddu Recipe in Bengali
উপকরণসমূহ:
- বেসন (ছানা আটা) – ২ কাপ
- চিনি – ১ ½ কাপ
- জল – ১ কাপ
- ঘি – ১ কাপ
- কাজু – ২ টেবিল চামচ (মিহি করে কাটা)
- কিশমিশ – ২ টেবিল চামচ
- এলাচ গুঁড়ো – ১ চা চামচ
- জাফরান – ১ চিমটি (ঐচ্ছিক)
- পেস্তা – ১ টেবিল চামচ (গার্নিশের জন্য)
প্রস্তুতির পদ্ধতি:
- চিনি সিরাপ তৈরি করা:
- প্রথমে, একটি পাত্রে ১ কাপ চিনি ও ১ কাপ জল যোগ করে কম আঁচে ফোটাতে দিন। চিনি পুরোপুরি গলে যাওয়া পর্যন্ত নাড়াচাড়া করতে থাকুন।
- সিরাপটি কিছুটা ঘন হয়ে এলে, তাতে এলাচ গুঁড়ো ও জাফরান যোগ করে আরও ২ মিনিট ফোটান। সিরাপটি একপাশে সরিয়ে রাখুন।
- বেসন ভাজা:
- একটি বড় পাত্রে ঘি গরম করে তাতে বেসন ঢেলে কম আঁচে ভাজতে থাকুন।
- বেসনটি সোনালি রঙ ধারণ না করা পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। ১৫-২০ মিনিট ধীরে ধীরে ভাজুন যাতে ঘ্রাণ বের হতে থাকে এবং বেসন কাঁচা না থাকে।
- মিশ্রণ তৈরি:
- ভাজা বেসনে ধীরে ধীরে চিনি সিরাপ ঢেলে ভালভাবে মিশিয়ে নিন।
- মিশ্রণে কাজু ও কিশমিশ যোগ করে মসৃণভাবে মেশাতে থাকুন।
- মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে গ্যাস বন্ধ করে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হতে দিন।
- লাড্ডু গঠন করা:
- মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে, হাতে তেল মেখে ছোট ছোট গোলাকার লাড্ডু তৈরি করুন।
- প্রতিটি লাড্ডুর উপরে কিছু পেস্তা দিয়ে সাজিয়ে নিন।
পরিবেশন:
লাড্ডুগুলি একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে এলে পরিবেশন করুন। আপনি চাইলে এগুলি ২-৩ দিন সংরক্ষণ করতে পারেন। 😊
পুষ্টিগুণ (প্রতি লাড্ডুতে):
- ক্যালোরি: ১০০-১৫০
- ফ্যাট: ৬-৮ গ্রাম
- কার্বোহাইড্রেট: ১৫-২০ গ্রাম
- প্রোটিন: ২-৩ গ্রাম
এটি একটি মিষ্টি এবং জনপ্রিয় প্রসাদ যা বিশেষ করে ভক্তদের কাছে প্রিয়।
পানীয় জোড়া:
- দুধ বা চা সাথে পরিবেশন করলে আরও ভাল লাগবে।
লাড্ডুর বিশেষত্ব:
- মিষ্টির ইতিহাস: তিরুপতি লাড্ডুর ইতিহাস বেশ পুরানো, ৩০০ বছরেরও বেশি। ২০০৯ সালে এটি ভৌগোলিক সূচক (GI Tag) পায়, যা এই মিষ্টিকে একটি অনন্য স্থান দেয়। GI ট্যাগ এই লাড্ডুকে একটি বিশেষ মান দেয় যা এটিকে অনন্য এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করে।
- প্রসাদ হিসেবে পবিত্রতা: তিরুপতি মন্দিরে দৈনিক কয়েক লক্ষ লাড্ডু তৈরি হয়, যা ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়। এটি ভক্তদের জন্য পবিত্র খাবার হিসেবে গণ্য হয় এবং বলা হয় যে এই লাড্ডু ভক্তির প্রতীক।
- উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী: তিরুপতি লাড্ডু তৈরিতে সাধারণত বেসন, চিনি, ঘি, কাজু, কিশমিশ এবং এলাচ ব্যবহার করা হয়। মন্দিরের মধ্যে এর জন্য নির্ধারিত রান্নাঘর রয়েছে যেখানে অত্যন্ত পরিস্কারভাবে এবং ধর্মীয় রীতিনীতির সাথে এই মিষ্টি তৈরি করা হয়।
- মাপ ও ওজন: প্রতিটি তিরুপতি লাড্ডুর ওজন প্রায় ১৭০ গ্রাম হয় এবং এটি গোলাকার। এছাড়া মন্দির কর্তৃপক্ষ কিছু বিশেষ লাড্ডু তৈরি করে যা তুলনায় একটু বড় এবং উৎসবকালে বিতরণ করা হয়।
ভক্তির প্রতীক:
তিরুপতি লাড্ডুকে শুধু মিষ্টি হিসেবে দেখা হয় না, এটি ভক্তির প্রতীক। যারা তিরুপতি মন্দিরে ভগবান বালাজির দর্শন করতে যান, তারা প্রসাদ হিসেবে এই লাড্ডু নিয়ে আসেন এবং এটি ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে ভক্তির অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। লাড্ডুর স্বাদও এতটাই বিশেষ যে যারা এটি একবার গ্রহণ করেন, তারা আবারও ফিরে আসতে চান।
অর্থনৈতিক দিক:
তিরুপতি লাড্ডু মন্দিরের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বছরে প্রায় কয়েক কোটি লাড্ডু বিক্রি হয়, যা মন্দিরের অন্যান্য সেবার জন্য অর্থ যোগায়।
এই বিশেষ মিষ্টি শুধুমাত্র স্বাদে নয়, ভক্তি ও ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত। তিরুপতি লাড্ডু ভক্তদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসাদ এবং ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি হিসেবে পরিচিত।